ফরিদপুর শহরের উত্তর শোভারামপুর এলাকায় এক ভোরবেলা ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা, যেখানে দুই দুষ্কৃতী পিস্তলসদৃশ অস্ত্র ঠেকিয়ে মঞ্জু রানী দাস (৩৬) নামের এক গৃহবধূর কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সড়ক থেকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি পাশের একটি সিসি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে, যেখানে মঞ্জু রানী ওই সময় […]
ফরিদপুর শহরের উত্তর শোভারামপুর এলাকায় এক ভোরবেলা ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা, যেখানে দুই দুষ্কৃতী পিস্তলসদৃশ অস্ত্র ঠেকিয়ে মঞ্জু রানী দাস (৩৬) নামের এক গৃহবধূর কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সড়ক থেকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি পাশের একটি সিসি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে, যেখানে মঞ্জু রানী ওই সময় তার স্বামী বিষু দাসের মুদি দোকানের সামনে সড়ক ঝাড়ু করছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক তার কাছে এসে প্রথমে কানের একটি দুল টেনে নেন এবং এরপর পিস্তলসদৃশ অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে অন্য দুলও ছিনিয়ে নেন। ভয় পেয়ে গৃহবধূ দুল খুলে দিয়ে বাধ্য হন।
এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই যুবক হেলমেট পরিধান করে মোটরসাইকেলে করে আসে। পেছনের যুবক প্রথমে গৃহবধূর দুল টেনে নেন, আর সামনে থাকা চালক পিস্তলসদৃশ অস্ত্র বের করে তাকে হুমকি দেন। ঘটনাস্থল থেকে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
মঞ্জু রানী দাস জানিয়েছেন, “আমি প্রতিদিন সকালে দোকানের সামনে সড়ক ঝাড়ু দিই। ওই দিন হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে দুইজন যুবক এসে আমার কাছে এসে দুল টেনে নিল। তারা পিস্তল দেখিয়ে বলে, ‘চিৎকার করলে গুলি করে দেবো।’ আমি ভয় পেয়ে দুল খুলে দিয়ে দিয়েছি। আমি তাদের চিনতে পারি না।”
গৃহবধূর স্বামী বিষু দাস বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় নিত্য নতুন। সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ করব। আমরা চাই, দুষ্কৃতীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি ফোন ধরেননি।
এ ধরনের অপরাধ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির জন্য বড় হুমকি। দিনের আলোতে সড়কের মাঝখানে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গৃহবধূর মতো সাধারণ নাগরিকদের নিকট থেকে এমন বর্বরতা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়।
স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অপরাধীদের শনাক্তে সহায়ক হলেও, তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য।
পাঠকবৃন্দের জন্য এ ঘটনার গুরুত্ব হলো, তাদের সর্বদা সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কাউকে দ্রুত জানানো। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।