সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৪:০৪ অপরাহ্ন, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা:কনডেম সেলে কাটছে মিন্নির দিন, দীর্ঘ হচ্ছে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের অপেক্ষা

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দিজীবন কাটছে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখনো চূড়ান্ত রায় আসেনি। ফলে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে […]

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা:কনডেম সেলে কাটছে মিন্নির দিন, দীর্ঘ হচ্ছে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের অপেক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দিজীবন কাটছে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখনো চূড়ান্ত রায় আসেনি। ফলে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন তিনি।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর দায়ের করা মামলায় নিহতের স্ত্রী মিন্নিসহ একাধিক আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারিক আদালতে মিন্নির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়। এরপর থেকে উচ্চ আদালতে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

২০২০ সালে মৃত্যুদণ্ড, এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি

২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ের পর একই বছরের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে মিন্নিসহ আসামিরা পৃথক আপিল করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ জন্য বিচারিক আদালতের নথি ও রায় হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট আসামিরা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও পান।

মিন্নির ক্ষেত্রেও ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে। এ ছাড়া শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হলেও তা কার্যকর শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইকোর্টে জমে আছে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার এই জট ক্রমেই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানান, বর্তমানে ২০১৯ সালের ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের রিফাত শরীফ হত্যা মামলার নথির বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফলে মিন্নির মামলার শুনানি কবে শুরু হবে এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের দীর্ঘসূত্রতা তাঁর কারাজীবনের অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার ও আইনি প্রশ্ন

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত একটি মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ কারণে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় বছরের পর বছর কনডেম সেলে বন্দি থাকার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কিত প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তির আগে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত পরিণতি নিশ্চিত নয়। তাই দীর্ঘ সময় নির্জন কুঠুরিতে বন্দি থাকার মানসিক ও মানবিক প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মিন্নির মামলার ক্ষেত্রেও বিচারিক আদালতের রায়ের পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জামিনের আবেদন কার্যতালিকায় আসেনি

মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না জানান, সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, মিন্নির শারীরিক অসুস্থতা এবং নারী বন্দি হিসেবে তাঁর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০২২ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের অপারগতা এবং পরবর্তী বেঞ্চে শুনানির সময় পিছিয়ে যাওয়ার কারণে আবেদনটি আর কার্যতালিকায় আসেনি বলে জানান তিনি। ফলে জামিনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক একটি চক্র ষড়যন্ত্র করে তাঁর মেয়েকে মামলায় ফাঁসিয়েছে। মেয়ের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি অন্তত জামিন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কনডেম সেলে একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি

কারা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে মিন্নিই একমাত্র নারী বন্দি। কারাবিধি অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগও নেই।

কারা সূত্র জানায়, মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান মিন্নি। এ ছাড়া সপ্তাহে একবার সীমিত সময়ের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি।

কারাগারে মিন্নি মানসিকভাবে ধীরস্থির ও শান্ত প্রকৃতির বলে জানিয়েছে সূত্রটি। কনডেম সেলে তাঁর অধিকাংশ সময় কাটে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মিন্নির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের নিষ্পত্তি হয়নি। উচ্চ আদালতের শুনানির অপেক্ষায় থাকা এই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ