কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। কক্সবাজারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে […]
ছবি: সংগৃহীত
-সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। টানা সাত ঘণ্টার অভিযান শেষে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ছয়জনকে একটি কক্ষে পাওয়া গেছে। তাঁদের ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে ওয়াশরুমে। আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রিসোর্ট ভবনটিতে প্রচুর কাঠসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা অতিথিরা বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।
পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন পর্যটকদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চারজনকে বিমানে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া অতিথিদের তালিকা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বের হওয়ায় নিরাপদে ছিলেন। সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম অতিথিদের তালিকার সঙ্গে মেলেনি।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলোও তদন্ত করা হচ্ছে।
সংখ্যাগুলোর অসঙ্গতি পরিষ্কার করে লিখুননিখোঁজ–নিহতের তথ্য সাবধানে সাজান