সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রিভিউ
৪:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, অস্বস্তিতে মোদি

প্রায় এক মাস ধরে চলা ইরান-সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক আলোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। এই পদক্ষেপে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, একদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ আরও […]

ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, অস্বস্তিতে মোদি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

প্রায় এক মাস ধরে চলা ইরান-সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক আলোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।

এই পদক্ষেপে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, একদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সক্রিয়তা প্রকাশ পাওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ দেশেও বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়েন।

লন্ডনভিত্তিক দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইসলামাবাদকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে তুলে ধরেন। এর পরদিনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এবং ইরানি প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সপ্তাহের মধ্যেই আলোচনা শুরু হতে পারে।

পাকিস্তানের এই নতুন কূটনৈতিক ভূমিকাকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে একে কার্যত ব্যর্থ কূটনীতি বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি অনেকটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যক্তিগত নীতিতে পরিণত হয়েছে, যার ফল এখন স্পষ্ট। তার ভাষায়, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক ধরনের রসিকতায় পরিণত হয়েছে।

যেদিন পাকিস্তানের মধ্যস্থতার খবর সামনে আসে, সেদিনই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। তবে ওই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। পরে মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই নেতা যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংঘাতে পাকিস্তানের এ ধরনের ভূমিকা ব্যতিক্রমী। সাধারণত কাতার বা জাতিসংঘ এমন মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য পথ খোঁজাই যুক্তিযুক্ত হয়ে উঠেছে বলে মত দিচ্ছেন অনেকে।

পাকিস্তানের পক্ষে এই ভূমিকা পালনের পেছনে কয়েকটি সুবিধাও রয়েছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে নিরাপত্তা-সম্পর্ক ইসলামাবাদকে এ জায়গায় এনে দিয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গও এই কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে এসেছে। গত বছর পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে সাময়িক সংঘাত হয়েছিল, তা থামাতে ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল বলে পাকিস্তান প্রকাশ্যে স্বীকার করে। কিন্তু ভারত সে বিষয়ে নীরব থাকে। পাকিস্তানের সেই কূটনৈতিক সক্রিয়তা ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে নেননি বলে ধারণা করা হয়। পরে পাকিস্তানি নেতাদের ওয়াশিংটনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

অন্যদিকে মোদির সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ইরান ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। ইরানে হামলার আগে তেল আবিব মোদিকে স্বাগত জানিয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

ভারতের সাবেক কূটনীতিক টিসিএ রাঘবন বলেন, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তান যদি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে, তাহলে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা জয়রাম রমেশও মোদি সরকারের কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, পাকিস্তানের প্রচারকৌশল ও কূটনৈতিক তৎপরতার সামনে ভারত অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে।

এদিকে আরেক সাবেক কূটনীতিক রাঘবন মন্তব্য করেন, ভারত দীর্ঘদিন ভেবেছিল পাকিস্তান বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রান্তিক হয়ে গেছে। কিন্তু পাকিস্তান যদি কূটনৈতিকভাবে সফল হয়, তা হবে ভারতের জন্য বড় ধাক্কা।

ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ওভাল অফিসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের একাধিক বৈঠক হয়েছে, যা কয়েক বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। এখন ইরান-সংঘাতে পাকিস্তান যদি সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে আসে, তা ইসলামাবাদের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখা হবে।

সূত্র: আমার দেশ

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ