গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন ব্রিকস জোটের নেতারা। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা। শনিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে এসব অবস্থান তুলে ধরা হয়। সদস্য দেশগুলোর নেতারা গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় […]
ছবি: সংগৃহীত
গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন ব্রিকস জোটের নেতারা। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা।
শনিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে এসব অবস্থান তুলে ধরা হয়। সদস্য দেশগুলোর নেতারা গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ব্রিকস নেতারা বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকার ভৌগোলিক বা জনমিতিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রচেষ্টারও বিরোধিতা করা হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ব্রিকস নেতারা ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তাদের সমর্থনও পুনরায় জানিয়েছেন।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিকস। বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজায় খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানোর পথে বাধা দূর করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক বা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে জোটটি। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর (UNRWA) কার্যক্রমের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের স্থায়ী সমাধান শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব বলে মত দিয়েছে ব্রিকস। এ ক্ষেত্রে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়েও সমর্থন জানিয়েছে জোটটি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিকস নেতাদের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরেও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা