স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। […]
ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিন আবেদনে আসামিপক্ষ দাবি করে, জাহের আলভী ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। প্রেমের বিয়ে করার কারণে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস বা গুরুতর হাঁপানিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। গত ১৩ জুন হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে কারাগারের বদ্ধ পরিবেশে রাখা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও দাবি করেন তার আইনজীবীরা।
তবে বাদীপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে আফরা ইবনাত ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও বাসার মালিক তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ একাধিক আইনজীবী অংশ নেন। তারা আদালতের কাছে জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
উল্লেখ্য, জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরা ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। একই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
এদিকে আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলাকালে জাহের আলভীকে কারাগারেই থাকতে হবে।