জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবকে দায়ী না করে ইউক্রেন ও ডেমোক্র্যাটদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া […]
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবকে দায়ী না করে ইউক্রেন ও ডেমোক্র্যাটদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের একের পর এক হামলার কারণেই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পেট্রোলের দাম বাড়ার পেছনে এখন আর হরমুজ প্রণালির ভূমিকা নেই। তাঁর ভাষ্য, সেখান থেকে বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ তেল বাইরে আসছে।
তিনি লেখেন, ‘পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়ার পেছনে আর হরমুজ প্রণালির ভূমিকা নেই, কারণ সেখান থেকে এখন প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ তেল বাইরে আসছে। বরং আসল সমস্যা হচ্ছে তেল শোধনাগারগুলো নিয়ে, যেখানে একদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগারগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো নীল অঙ্গরাজ্যগুলোতে আমাদের নিজস্ব শোধনাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’
তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল সরবরাহ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৪ দশমিক ১৪ ডলার। আর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার।
সেন্টার ফর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো রেচেল জিয়েম্বা বলেন, রাশিয়ার শক্তি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় শোধনাগার বন্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) বিশ্লেষণেও রাশিয়ার জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় হামলার প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনের সক্ষমতা অর্ধেকেরও বেশি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গত ১৮ মাসে দেশটির ডিজেল উৎপাদনও ৩০ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অঙ্গরাজ্যটির মোট শোধনাগার সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমেছে।
তেলের দাম বাড়ার জন্য ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করলেও সাম্প্রতিক এপি-এনওআরসি জনমত জরিপে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। জরিপে ৬৫ শতাংশ আমেরিকান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন। একই জরিপে ৬১ শতাংশ মনে করছেন, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা