কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন–এ ঘটে গেছে এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই বছরের শিশুসন্তানকে বাঁচিয়েছেন এক বাবা। অবিশ্বাস্য এই ঘটনায় ট্রেন তাদের ওপর দিয়ে চলে গেলেও বাবা ও সন্তান দুজনই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হন। মঙ্গলবার দুপুরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটি ঘটে। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি […]
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন–এ ঘটে গেছে এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই বছরের শিশুসন্তানকে বাঁচিয়েছেন এক বাবা। অবিশ্বাস্য এই ঘটনায় ট্রেন তাদের ওপর দিয়ে চলে গেলেও বাবা ও সন্তান দুজনই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হন।
মঙ্গলবার দুপুরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটি ঘটে। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রামের এক দম্পতি তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশনে পৌঁছালে তারা একটি কামরায় ওঠার চেষ্টা করেন।
এ সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সংকীর্ণ ফাঁকা স্থানে পড়ে যান। মা দ্রুত ওপরে উঠতে পারলেও শিশুটিকে তুলতে পারেননি। ঠিক তখনই ট্রেন চলা শুরু করলে বাবা দেরি না করে নিচে লাফিয়ে পড়েন।
তিনি শিশুটিকে বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেললাইনের পাশে স্থির হয়ে শুয়ে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের বগিগুলো তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন।
ট্রেন চলে যাওয়ার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনই নিরাপদে আছেন। পরে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া বলেন, বাবার সামান্য নড়াচড়াও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। তিনি অসাধারণ ধৈর্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, ট্রেনটি দেরিতে আসায় প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ভিড় ছিল। সেই চাপের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে রেলওয়ে পুলিশ তাদের প্রাথমিক সহায়তা দেয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ বলেন, বাবা ও শিশুর শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। তবে ভয় পেয়ে যাওয়ায় তারা ঢাকায় না গিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।