বাংলাদেশ বহু বছর ধরে কাঁচা তুলা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। নতুন প্রবণতায় তুলা আমদানির শীর্ষ উৎসে উঠে এসেছে ব্রাজিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত ‘Bangladesh moves away from India, makes Brazil its top cotton source’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর […]
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে কাঁচা তুলা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। নতুন প্রবণতায় তুলা আমদানির শীর্ষ উৎসে উঠে এসেছে ব্রাজিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত ‘Bangladesh moves away from India, makes Brazil its top cotton source’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর তুলা আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে এড়িয়ে ক্রমশ ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকছে ঢাকা। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হওয়ায় বিপুল পরিমাণ তুলার চাহিদা তৈরি হয়। এ খাতে দীর্ঘদিন ভারতের আধিপত্য থাকলেও এখন সেই অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট কাঁচা তুলা ও সুতা আমদানির প্রায় ৮২ শতাংশ এখনো ভারত থেকে এলেও আমদানির শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে ব্রাজিল ভারতকে টপকে গেছে। এ বছর বাংলাদেশ ৮.২৮ মিলিয়ন বেল তুলা আমদানি করেছে, যার মধ্যে ব্রাজিল সরবরাহ করেছে ১.৯ মিলিয়ন বেল—মোটের প্রায় ২৫ শতাংশ।
ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ভারত ১.৪ মিলিয়ন বেল তুলা সরবরাহ করে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে। এক বছর আগেও ভারত ছিল শীর্ষ রপ্তানিকারক, তখন তাদের বাজার অংশ ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের তুলা আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পোশাকশিল্পে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ মূলত দুই ধরনের সুতা—সুতির এবং মিশ্র সুতা—তৈরিতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা তুলা আমদানি করে থাকে।
ব্রাজিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র (৭ শতাংশ), অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও বাংলাদেশে কাঁচা তুলা সরবরাহ করছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ আয় করে এবং খাতটিতে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের অধিকাংশই নারী। তুলা আমদানিতে বাংলাদেশের উৎসবৈচিত্র্য বাড়ায় দেশটি এখন আগের তুলনায় ভারত-নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে।