নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ির চলাচল বন্ধের বিল পাস করেছে সিটি কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ৪০-৭ ভোটে অনুমোদিত ‘রোমাঞ্চ’স ল’ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জুনের মধ্যে শহরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন বিলটি মেয়র জোহরান মামদানির স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। মেয়রের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি বিলে স্বাক্ষর করবেন। বিলটির পক্ষে ৪০ […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ির চলাচল বন্ধের বিল পাস করেছে সিটি কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ৪০-৭ ভোটে অনুমোদিত ‘রোমাঞ্চ’স ল’ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জুনের মধ্যে শহরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন বিলটি মেয়র জোহরান মামদানির স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। মেয়রের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি বিলে স্বাক্ষর করবেন।
বিলটির পক্ষে ৪০ জন কাউন্সিল সদস্য ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন সাতজন এবং দুজন ভোটদানে বিরত থাকেন। আইনটি কার্যকর হলে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত চালক ও মালিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি অবসর নেওয়া ঘোড়াগুলোর মানবিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোমাঞ্চ মহাজনের মৃত্যুর পর নতুন করে উদ্যোগ
ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ১৮ বছর বয়সী পর্যটক রোমাঞ্চ মহাজনের মৃত্যু। চলতি বছরের জুনে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির একটি দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। ওই ঘটনার পর জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি সামনে রেখে ঘোড়ার গাড়ির শিল্প বন্ধের দাবি আরও জোরালো হয়।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, কয়েক দশক ধরে এ শিল্প নিয়ে বিতর্ক চলছিল। রোমাঞ্চের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, পার্কে অতিরিক্ত ভিড়, প্রচণ্ড গরম এবং ঘোড়া ও মানুষের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
বিলটি উত্থাপন করেন কাউন্সিল সদস্য ক্রিস্টোফার মার্তে। সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালেও ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব এলেও সেগুলো কার্যকর হয়নি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবার বিলটি কাউন্সিলে পাস হলো।
চালক ও ব্যবসায়ীদের জন্য থাকবে রূপান্তর পরিকল্পনা
বিলটিতে শুধু ঘোড়ার গাড়ির কার্যক্রম বন্ধের কথা বলা হয়নি; এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একটি রূপান্তর পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এতে চালক, ঘোড়ার গাড়ির মালিক এবং আস্তাবলে কাজ করা কর্মীদের বিকল্প চাকরি খোঁজা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা, লাইসেন্স ও সরঞ্জামের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হবে। তবে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বিল অনুযায়ী, ঘোড়াগুলোকে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে বিক্রি বা অন্য কোথাও স্থানান্তর করা যাবে না। তাদের নিরাপদ ও মানবিকভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।
প্রাণী অধিকারকর্মীদের সমর্থন, বিরোধিতা চালকদের
প্রাণী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়ার গাড়ির শিল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, ব্যস্ত সড়ক, যানজট, অতিরিক্ত গরম ও মানুষের ভিড়ের মধ্যে ঘোড়াগুলোকে চলাচল করানো প্রাণী এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, ঘোড়ার গাড়ির মালিক ও চালকদের অনেকে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা ঘোড়াগুলোর যথাযথ যত্ন নেন এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের ব্যবসা ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন টিডব্লিউইউ লোকাল ১০০ বিলটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যবসার মালিকদের সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে।
ট্রাম্পের সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কে ঘোড়ায় টানা গাড়ি ১৮৫৮ সাল থেকে সেন্ট্রাল পার্কের পর্যটন আকর্ষণের অংশ হিসেবে পরিচিত। বিলটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের এই শিল্পের অবসান ঘটবে। তবে তার আগে চালক ও মালিকদের জন্য রূপান্তর পরিকল্পনা এবং ঘোড়াগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল, রয়টার্স, সিবিএস নিউইয়র্ক