আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এর প্রভাব পড়েছে চলতি মৌসুমের চাষাবাদে। কৃষি বিভাগ বলছে, গত মৌসুমে লোকসানের কারণে অনেক কৃষক এবার আলু চাষ কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সাধারণত কোনো সবজির উৎপাদন বেশি হলেও কৃষকরা বড় ধরনের […]
ছবি: সংগৃহীত
আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এর প্রভাব পড়েছে চলতি মৌসুমের চাষাবাদে। কৃষি বিভাগ বলছে, গত মৌসুমে লোকসানের কারণে অনেক কৃষক এবার আলু চাষ কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
সাধারণত কোনো সবজির উৎপাদন বেশি হলেও কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন না। তবে আলুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু পর্যাপ্ত হারে রপ্তানি না হওয়ায় বাজারে দাম পড়ে যায় এবং কৃষকরা লোকসানে পড়েন। এ কারণেই সরকার আলুর উৎপাদন চাহিদার কাছাকাছি রাখতে চাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, চলতি মৌসুমে আলু চাষ কম হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, গত বছর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ফলে আলু চাষে আগ্রহ কমেছে। দ্বিতীয়ত, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কৃষকদের আলুর পরিবর্তে বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ অন্তত ১০ ধরনের সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো একটি ফসলে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
তিনি আরও জানান, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টনের মতো হলেও গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এই অতিরিক্ত আলুর বড় অংশই রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে বেশিরভাগ আলু আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না।
তবে সানসাইন, গ্র্যানোলা, ডায়মন্ড, ম্যাজেস্টিক, প্রাডা, সান্তানা, কুইন এ্যানি, কুম্বিকা, ডোনেটা এবং বারি আলু-৬২—এই জাতগুলোর আলু তুলনামূলকভাবে রপ্তানিযোগ্য এবং এগুলো বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানিযোগ্য জাতের আলুর উৎপাদন এখনো খুবই সীমিত। এই ধরনের আলুর চাষ বাড়ানো গেলে দেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ আলু রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ফেরদৌসী বেগম বলেন, উন্নতমানের আলুর ঘাটতির মধ্যেও বিএডিসির উদ্ভাবিত ‘সানসাইন’ জাতের আলু আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো সাড়া পাচ্ছে। বিদেশে আলুর চাহিদা অনেক বেশি এবং রপ্তানিকারকরা সেই বাজার ধরতে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন, ২০২১–২২ অর্থবছরে ৬২ হাজার ৭২৬ মেট্রিক টন এবং ২০২০–২১ অর্থবছরে ৫১ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে। তবে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। যেখানে ২০১৩–১৪ অর্থবছরে আলু রপ্তানি থেকে আয় ছিল সর্বোচ্চ ৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা নেমে এসেছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের আশপাশে।
এ বিষয়ে সচিবালয়ে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাননি। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার আলু চাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।