যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা জানিয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক ‘ইসলামাবাদ’–এর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ অবস্থান জানান। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়নি’ আব্বাস আরাগচি বলেন, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুধু বার্তা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক ‘ইসলামাবাদ’–এর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ অবস্থান জানান।
আব্বাস আরাগচি বলেন, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুধু বার্তা আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ বজায় রাখছে। তবে এটিকে কোনোভাবেই সরাসরি আলোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এতে ‘যুদ্ধের সমাপ্তি’ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে এমন কোনো যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়নি, যার মেয়াদ পরবর্তী সময়ে বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে আবার সংঘর্ষ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে ওমানের চলমান আলোচনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সঙ্গে এক করে দেখার বিষয়েও সতর্ক করেছেন আরাগচি।
তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং সেখানে বিভিন্ন খুঁটিনাটি ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক সীমারেখা এবং জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে।
আরাগচির মতে, আগের জাহাজ চলাচলের রুটগুলো এখন আর কার্যকর নেই। তাই একটি অস্থায়ী রুট তৈরির কাজ চলছে, যা পরবর্তীতে চূড়ান্ত রুটে রূপান্তর করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওমানের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া দুটি পৃথক বিষয়।
নতুন রুট নির্ধারণ করা হলেও এর অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালি সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। প্রণালি খুলতে হলে আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে এবং এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে চলতে হবে বলে জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি, আল জাজিরা