সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
৫:৫০ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের একীভূতকরণে গঠিত নতুন বড় ব্যাংক

বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হলো। পাঁচটি দুর্বল ইসলামি ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এই নতুন ব্যাংকের নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেছে, যা দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। একীভূতকরণের পেছনের কারণ […]

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের একীভূতকরণে গঠিত নতুন বড় ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হলো। পাঁচটি দুর্বল ইসলামি ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এই নতুন ব্যাংকের নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেছে, যা দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

একীভূতকরণের পেছনের কারণ ও প্রক্রিয়া

গত কয়েক বছরে ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক নানা কারণে অর্থনৈতিক দুর্বলতায় পড়েছে। বিশেষ করে গতকালের সরকারের সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ফলে এই ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে সমস্যায় পড়েছে।

এর ফলে, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও উপদেষ্টা পরিষদ একীভূতকরণ ও নতুন ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাঁচটি ব্যাংকের সম্পদ, দায়-দেনা একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন ব্যাংকের নাম ও আইনি প্রক্রিয়া

প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’ নাম প্রস্তাব করলেও, উপদেষ্টা পরিষদ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামটিকেই চূড়ান্ত করে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, নতুন ব্যাংক গঠনের জন্য প্রথমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হবে। এরপর কোম্পানির নিবন্ধন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যবসার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হবে।

মূলধন ও অর্থায়ন পরিকল্পনা

নতুন ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা হলেও, পরিকল্পনা অনুযায়ী এর পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হবে, যাদের এত বড় পরিমাণ মূলধন অন্য কোনো ব্যাংকের নেই।

সরকার নতুন ব্যাংকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা নগদ এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সুকুক বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানত সুরক্ষা তহবিল ও করপোরেট আমানতকারীদের শেয়ার দিয়ে পূরণ করা হবে।

আমানতকারীদের সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নতুন ব্যাংকের টাকা খরচের বড় অংশই যাবে আমানতকারীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধে। ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ফেরত দেওয়া হবে, বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে আমানতকারীরা তাদের টাকা নিরাপদে পাবেন এবং ব্যাংকিং খাতে লোকসান কমে আসবে।

প্রভাব ও গুরুত্ব

এই নতুন ব্যাংক গঠনের ফলে দেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী হবে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। সরকার আশা করছে, এতে আমানত প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের তহবিলের ঘাটতি দূর হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহ বাড়ানোর জন্যও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য এক নতুন অধ্যায়। দুর্বল অবস্থায় থাকা পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইসলামী ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ