সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিনোদন
৬:৫১ অপরাহ্ন, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান, ২৩০ পিস অননুমোদিত লিকার জব্দ

ঢাকার গুলশানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ চারটি বার ও রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকারসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে রাতে সংবাদ সম্মেলনে […]

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান, ২৩০ পিস অননুমোদিত লিকার জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ঢাকার গুলশানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ চারটি বার ও রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকারসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, লিকারজাতীয় পণ্য মজুত এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করার প্রবণতা প্রতিহত করতে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চারটি দল বিভিন্ন বারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।

গুলশানের ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। কর্মকর্তারা জানান, পণ্যগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ‘জিনশেং’ নামে একটি পণ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য এবং ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। এ পণ্যেরও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযানে প্রায় এক কেজি জাফরানও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানান, এটি উচ্চ শুল্কের একটি দামি পণ্য। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

আরও দুই প্রতিষ্ঠানে অভিযান

গুলশানের মার্গারিটা লাউঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৬০৮ লিটার অনুমোদিত মদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার ছিল দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য। পুরো মদই জব্দ করা হয়েছে।

তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালেও অভিযান চালানো হয়। রিজভী আহমেদ জানান, হোটেলটির বারটি হোটেলের নামে লাইসেন্স করা নয়। এটি ‘হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো নথি দেখাতে পারেননি। তাদের নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের আরএডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়েছে।

‘কোনো ব্যক্তি বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুখ্য বিষয় নয়’

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কোনো আক্রোশ থেকে অভিযান চালানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, এনবিআরের অভিযানে কোনো ব্যক্তি বা সংঘ মুখ্য বিষয় নয়। তাদের কাছে সংরক্ষিত নথিপত্র এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যক্তি, সংঘ কিংবা কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর একেবারেই মুখ্য বিষয় নয়। এটা নির্দ্বিধায় আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে পারি।’

রিজভী আহমেদ আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযানের জন্য সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে। এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ