হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে তেহরান। পর্যালোচনা শেষ হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার (১২ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান এখনো চলছে। তবে আলোচনার […]
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে তেহরান। পর্যালোচনা শেষ হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইরান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান এখনো চলছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি বা মার্কিন জবাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সংঘাত বন্ধে কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে পরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আবারও থেমে থেমে হামলা শুরু হয়।
এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় ইরান। পরে তেহরান নিশ্চিত করে, প্রস্তাবটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়া গেছে। তবে এরপর থেকে আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে এগোয়নি।
গত রোববার ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আলোচনা শুরু করার জন্য তেহরান সাতটি শর্ত দিয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের জবাবে এসব শর্ত যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন চায়, নতুন করে যেকোনো আলোচনা শুরু হলে শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হোক।
তবে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। ইরান মনে করে, আলোচনার শুরুতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা শেষে ইরান কী অবস্থান নেয় এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।