বাংলাদেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা ২৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন মূল্য তালিকায় স্বর্ণের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা দেশের বাজারে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। বাজুসের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরিতে মূল্য ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে […]
বাংলাদেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা ২৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন মূল্য তালিকায় স্বর্ণের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা দেশের বাজারে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে।
বাজুসের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরিতে মূল্য ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। এর আগের দিনই ২৬ অক্টোবর একই সংগঠন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল ১ হাজার ৩৯ টাকা, যা ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছিল। এই ধারাবাহিক মূল্য সমন্বয় স্বর্ণের বাজারে সামগ্রিক সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
বিস্তারিত মূল্য তালিকা ও পরিবর্তনের কারণ
নতুন দামের ভিত্তিতে দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
এছাড়া, রুপার দামে ও সমন্বয় আনা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরিতে ১,২২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,২৪৬ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার মূল্যও প্রাসঙ্গিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই দামসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মূল্য নির্ধারণের সময় সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ওঠানামার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের চলতি বছরে স্বর্ণ ও রুপার দাম মোট ৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে ৬ বার দাম বেড়েছে, আর ৩ বার দাম কমেছে। এই ওঠানামা মূলত বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের মূল্য, এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। গত বছর তুলনামূলক কম, মাত্র ৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।
স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ আরো সুগম হচ্ছে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাজারের অস্থিরতা বিবেচনা করে সাবধানতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। রুপার দাম কমে যাওয়ায় গহনা শিল্পে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে রুপার জুয়েলারির ক্ষেত্রে।
স্বর্ণ ও রুপার দাম পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। গহনা খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ও বিক্রয় পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখে। এছাড়াও, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী ও গহনা ক্রেতাদের জন্য এই তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সঠিক সময়ে ক্রয়-বিক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের আর্থিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
বর্তমান দামের হ্রাস বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অবস্থা সবসময় নজরে রাখা প্রয়োজন।