সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

স্বাস্থ্য
৫:২৭ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬

আইসিইউতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, সংক্রমিতদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) দুটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত গুরুতর রোগীদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশেরও বেশি। শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআরবি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। প্রথম গবেষণাটি রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের […]

আইসিইউতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, সংক্রমিতদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) দুটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত গুরুতর রোগীদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশেরও বেশি।

শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআরবি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে।

প্রথম গবেষণাটি রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় গবেষণাটি একই হাসপাতালের এনআইসিইউতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি ৩৬৩ নবজাতকের তথ্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়।

চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী Microbiology Spectrum এবং Antimicrobial Resistance & Infection Control-এ গবেষণা দুটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সময় যেসব রোগীর শরীরে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছিল না, তাদের ৫৩ শতাংশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় নতুন করে এসব ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসেন। এছাড়া ভর্তি রোগীদের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশের অন্ত্রে এসব ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। এ অবস্থায় রোগীর শরীরে জীবাণু থাকলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ নাও হতে পারেন, তবে অন্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।

গবেষকদের মতে, হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেক রোগী নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। তাদের ধারণা, হাসপাতালের ভেতরেই এসব জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংক্রমণের জন্য প্রধানত চার ধরনের গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া দায়ী। এগুলো হলো ই-কোলাই (E. coli), ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি (Klebsiella pneumoniae), অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি (Acinetobacter baumannii) এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা (Pseudomonas aeruginosa)। এসব ব্যাকটেরিয়া দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে এবং প্রাণঘাতী সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকরা হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখিয়েছেন, শরীরে নীরবে থাকা এসব ব্যাকটেরিয়া পরবর্তীতে কীভাবে গুরুতর সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআরবির সহকারী বিজ্ঞানী গাজী মো. সালাহউদ্দীন মামুন বলেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ল্যাব পরীক্ষা এবং জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া কীভাবে ছড়ায় এবং শরীরে থাকা জীবাণু কীভাবে পরে মারাত্মক সংক্রমণে পরিণত হয়, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আইসিডিডিআরবির অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ও গবেষণার মুখ্য গবেষক ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল আরোগ্যের জায়গা হওয়া উচিত, নতুন সংক্রমণের উৎস নয়। সংকটাপন্ন রোগীদের সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ