সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
২:১২ অপরাহ্ন, ৩ আগস্ট ২০২৬

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই তৈরি পোশাকের রপ্তানিতে ধাক্কা

নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার (৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৯২ শতাংশ কম। নিটওয়্যার ও ওভেন—পোশাক খাতের দুটি উপখাতেই এই মাসে রপ্তানি কমেছে। তবে ওভেন […]

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই তৈরি পোশাকের রপ্তানিতে ধাক্কা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার (৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৯২ শতাংশ কম। নিটওয়্যার ও ওভেন—পোশাক খাতের দুটি উপখাতেই এই মাসে রপ্তানি কমেছে। তবে ওভেন পোশাক রপ্তানিতে তুলনামূলক বড় ধস নামায় সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি আয়ে এর দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ কেবল এক বছরের ব্যবধানে জুলাই মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

উপখাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:

  • নিটওয়্যার খাত: ২০২৬ সালের জুলাই মাসে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২১৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার, যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের ২১৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের তুলনায় ০.৯০ শতাংশ কম।
  • ওভেন গার্মেন্টস খাত: আলোচ্য মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৭২ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের ১৭৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তুলনায় ৩.১৬ শতাংশ কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ মাসে পোশাক খাতের মোট অর্জিত রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ এসেছে নিটওয়্যার খাত থেকে এবং বাকি ৪৪ শতাংশ এসেছে ওভেন পোশাক থেকে। নিটওয়্যার খাত কিছুটা সহনশীল অবস্থানে থাকলেও ওভেন খাতের বড় পতনই মূলত মোট রপ্তানি আয়কে নিম্নমুখী করে তুলেছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বৈশ্বিক ক্রেতাদের অতিরিক্ত সতর্ক ক্রয়নীতি, বিশ্বব্যাপী দরকষাকষির চাপ, দেশে কারখানা পরিচালনা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণেই জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানি প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মূল বাজারগুলোতে তৈরি পোশাকের নতুন অর্ডারের গতি এখনো স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি।

তবে শিল্পমালিকরা আশা প্রকাশ করছেন যে, ২০২৬-২৭ বছরের দ্বিতীয় অর্ধে আসন্ন বড়দিন (ক্রিসমাস) ও বসন্তকালীন মৌসুমের নতুন অর্ডার আসতে শুরু করলে দেশের পোশাক রপ্তানি আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। এ জন্য বর্তমানে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা, উচ্চমূল্যের (হাই-ভ্যালু) পোশাক উৎপাদনে জোর দেওয়া এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ