মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া সর্বশেষ দফার শান্তি আলোচনাকে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, […]
মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া সর্বশেষ দফার শান্তি আলোচনাকে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ভালো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ।”
এর আগে সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও শান্তি আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে দেশটি সত্য গোপন করছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা মহসিন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দ্বিতীয় কোনো করিডোর খোলা হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রণালির কাছাকাছি আসা যেকোনো যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মহসিন রেজাইয়ের দাবি, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিশ্বকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে বা ভবিষ্যতে এমন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে—এমন দাবি অস্বীকার করে আসছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো জরুরি পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি জানান, বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় কেবল হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, দেশটি তার সীমান্ত রক্ষায় অটল থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান সংঘাত আরও বাড়াতে চায় না এবং উত্তেজনা কমানোর পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, এর একদিন আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে এলেও কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার ভোরে আবারও তেলের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।