ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চললেও নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো যেখানে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেখানে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আবারও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চললেও নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো যেখানে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেখানে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আবারও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রস্তাব দিয়েছেন কুপার। গত সপ্তাহে ইসরায়েল সফরের সময় দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন কুপার। সেখানে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
বৈঠকে ইরানের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোয় হামলার কথা বলা হয়। কুপারের বক্তব্য হিসেবে চ্যানেল ১৩ দাবি করেছে, ইরানের অবকাঠামোয় আঘাত হানা হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে এবং তেহরানের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হবে।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরান তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না। তাই সামরিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কুপার ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের বলেছেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু করাই হয়তো একমাত্র বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালাতে হতে পারে।
একই অবস্থান তিনি মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের কাছেও তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পরিকল্পনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বহুজাতিক ড্রোন টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় প্রথম বহুজাতিক আক্রমণাত্মক ড্রোন টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন কাঠামো ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মার্কিন ও অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরে ১৭ জুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে আলোচনা এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়।
তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
এরপর ৮ থেকে ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা সামরিক সংঘাত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে তেহরানও পাল্টা জবাব দেয়। জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
এখন নতুন করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার প্রস্তাব সামনে আসায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা হলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারকেও নতুন করে অস্থির করে তুলতে পারে।