বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে ব্যক্তিস্বত্ব সুরক্ষাসংক্রান্ত মামলায় সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন না হলে এবং অমিতাভ মামলা চালিয়ে যেতে চাইলে পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিচারপতি পুরুষৈন্দ্র কুমার কৌরবের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালত […]
ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে ব্যক্তিস্বত্ব সুরক্ষাসংক্রান্ত মামলায় সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন না হলে এবং অমিতাভ মামলা চালিয়ে যেতে চাইলে পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিচারপতি পুরুষৈন্দ্র কুমার কৌরবের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালত জানান, মামলার কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত না হলে এবং অভিনেতা মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে পরবর্তী শুনানিতে সশরীরে হাজির হতে হবে।
আদালতকে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে অমিতাভ বচ্চনের ব্যক্তিস্বত্ব সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এরপর মামলার পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতাও হয়েছে।
তবে অমিতাভের পক্ষ থেকে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়ায় সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অভিনেতার আইনজীবী ধ্রুব আনন্দ সমঝোতা চূড়ান্ত করে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য আরও সময় চান।
আদালত আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন না হলে বা তা কার্যকর না হলে এবং অমিতাভ মামলা চালিয়ে যেতে চাইলে তাঁকে পরবর্তী শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
নিজের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বরসহ ব্যক্তিস্বত্ব ও প্রচারস্বত্ব সুরক্ষার দাবিতে ২০২২ সালে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন।
মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের নির্মাতারা জনপ্রিয় কুইজ অনুষ্ঠান ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-এর সঙ্গে তাঁর নাম অননুমোদিতভাবে যুক্ত করে লটারি পরিচালনা করছিলেন।
এ ছাড়া বই প্রকাশক, টি-শার্ট বিক্রেতা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যাতে তাঁর অনুমতি ছাড়া নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছিলেন তিনি।
২০২২ সালের নভেম্বরে বিচারপতি নবীন চাওলা অমিতাভ বচ্চনের ব্যক্তিস্বত্ব ও প্রচারস্বত্ব লঙ্ঘন থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তখন আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, কয়েকটি পক্ষ বর্ষীয়ান এই অভিনেতার তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে তাঁর অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে অমিতাভের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে এবং তাঁর সুনামও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যক্তিস্বত্ব সুরক্ষার এই মামলায় এখন সমঝোতা চূড়ান্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা কার্যকর না হলে মামলার পরবর্তী শুনানিতে অমিতাভ বচ্চনকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে হতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস