জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’। এবারের আসরে সেরা নায়কের পুরস্কার জিতেছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। তাঁর অভিনীত ‘বরবাদ’ নির্বাচিত হয়েছে সেরা সিনেমা হিসেবে। গত শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ইভাঞ্জেল চার্চের পার্টি হলে বসে এবারের আয়োজন। শাকিব খানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর, আফজাল হোসেনসহ মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা। […]
ছবি: সংগৃহীত
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’। এবারের আসরে সেরা নায়কের পুরস্কার জিতেছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। তাঁর অভিনীত ‘বরবাদ’ নির্বাচিত হয়েছে সেরা সিনেমা হিসেবে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ইভাঞ্জেল চার্চের পার্টি হলে বসে এবারের আয়োজন। শাকিব খানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর, আফজাল হোসেনসহ মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা।
সম্মাননা গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে শাকিব খান বলেন, চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরুর পর দেখতে দেখতে ২৭ বছর পার হয়েছে। ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে এসে নিজের চলচ্চিত্রজীবনের এই সময়টিকে নতুন করে উদ্যাপনের সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। দর্শকের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় বলে মন্তব্য করেন এই অভিনেতা।
শাকিব খান বলেন, সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে বারবার পরিবর্তন করেছেন, আর দর্শকেরাও সেই পরিবর্তন গ্রহণ করেছেন। তাঁর সিনেমা দেখতে দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে গেছেন। বাংলা সিনেমা যেমন বিশ্বজুড়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি এ ধরনের পুরস্কার আয়োজনও সেই অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।
আয়োজনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড’-এর মূল উদ্যোক্তা খোকন ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শাকিব খান। এবার নিজে সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি ফরিদুর রেজা সাগর ও আফজাল হোসেনসহ গুণীজনদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের ছিল।
‘শো-টাইম মিউজিক’-এর ব্যানারে ২৫ বছর ধরে আয়োজন করা হচ্ছে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এবারের আসরে মোট সাতটি বিভাগে ৩৭ জন শিল্পীকে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা এবং বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সিনেমা বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন রায়হান রাফি। সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তমা মির্জা এবং সেরা খলনায়কের পুরস্কার জিতেছেন মিশা সওদাগর। শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন আফজাল হোসেন। গণমাধ্যম ও বিনোদন জগতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
টেলিভিশন বিভাগে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফারহান আহমেদ জোভান এবং সেরা অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। জনপ্রিয়তার বিচারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন সামিরা খান মাহি ও ফাল্গুনী রহমান জলি।
সংগীত বিভাগে সেরা কণ্ঠশিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন শাহ মাহবুব। সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন অঙ্কন ইয়াসমিন। এ ছাড়া ইমরান মাহমুদুল, দিলশাদ নাহার কনা, মিলা ইসলাম ও ইবরার টিপুসহ আরও কয়েকজন শিল্পী পুরস্কৃত হয়েছেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা সিনেমা, সংগীত ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি লাভ করবে।