দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ একটি ডুবোচরের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজটি ওই এলাকার জলসীমায় প্রবেশের পর সেটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নৌবাহিনী পাঠানোর কথা জানিয়েছে চীন। একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনা একটি কোস্ট গার্ড জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানিয়েছে তাইওয়ান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর […]
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ একটি ডুবোচরের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজটি ওই এলাকার জলসীমায় প্রবেশের পর সেটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নৌবাহিনী পাঠানোর কথা জানিয়েছে চীন। একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনা একটি কোস্ট গার্ড জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানিয়েছে তাইওয়ান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে চীন। তবে ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও এ অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের ওপর পাল্টা দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি।
চীনের সাদার্ন থিয়েটার কমান্ড মঙ্গলবার জানায়, ভোরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস চার্লসটন চীনা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা ডুবোচরসংলগ্ন জলসীমায় প্রবেশ করে।
এক বিবৃতিতে চীনা সামরিক কমান্ড দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে এটি সমুদ্র নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে চীন।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির চলাচল অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য নিজেদের নৌবাহিনী পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে চীনা কমান্ড।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি মার্কিন নৌবাহিনী। এ ধরনের সামরিক অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের সর্বশেষ পরিচিত এ ধরনের অভিযান এক বছরেরও বেশি আগে পরিচালিত হয়েছিল।
ফিলিপাইনের এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি চীনা ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলের জন্য কোনো দেশের কাছে আগাম অনুমতি চাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবিনা ডুবোচরকে ঘিরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছে। গত মাসে ওই এলাকার কাছে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ফিলিপাইনের একটি নৌযানকে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ করেছে ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড। তবে ওই সংঘর্ষের জন্য ফিলিপাইনকেই দায়ী করেছে চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে ফিলিপাইনের। দেশটি ও চীন—উভয়েই সাবিনা ডুবোচরসহ পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।
এদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে আলাদা একটি ঘটনায় চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানিয়েছে তাইওয়ান। মঙ্গলবার তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, চীনের একটি কোস্ট গার্ড জাহাজ তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে নিষিদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করে।
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, চীনা নৌযানটিকে সতর্ক করে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের জাহাজ তাইচুং পাঠানো হয়। এ সময় দুই পক্ষই পরস্পরের উদ্দেশে বার্তা প্রচার করে।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। মঙ্গলবার তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে মার্কিন কংগ্রেসের নিযুক্ত একটি পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীনা কোস্ট গার্ডের টহল অত্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
একই অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, দ্বীপটির পূর্ব দিকের জলসীমার ওপর চীনের কোনো আইনি দাবি নেই।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা এ অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।