ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ […]
ছবি: সংগৃহীত
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২২ সালের ৬ জুলাই সাভার বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে বাদীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালত পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।
নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন নাসির। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরীমনি পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার ভয় দেখাতেন। তবে এসব অভিযোগ মামলার বাদীর বক্তব্য; আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি।