সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিনোদন
৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৫

৪৫ বছর আগের মায়ের বিয়ের শাড়ি পরায় জয়া আহসানের আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ

বাংলা সিনেমার আলোচিত মুখ এবং দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ মুহূর্ত শেয়ার করেছেন, যা তার ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ঢাকার মেয়ে হলেও গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতার চলচ্চিত্র জগতে নিজের বিশেষ ছাপ রেখে চলা জয়া, এবার নিজের মায়ের প্রায় আধশতাব্দী পুরনো বিয়ের শাড়ি পরে ছবি পোস্ট করে […]

৪৫ বছর আগের মায়ের বিয়ের শাড়ি পরায় জয়া আহসানের আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বাংলা সিনেমার আলোচিত মুখ এবং দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ মুহূর্ত শেয়ার করেছেন, যা তার ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ঢাকার মেয়ে হলেও গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতার চলচ্চিত্র জগতে নিজের বিশেষ ছাপ রেখে চলা জয়া, এবার নিজের মায়ের প্রায় আধশতাব্দী পুরনো বিয়ের শাড়ি পরে ছবি পোস্ট করে অতীতের স্মৃতিতে ভাসলেন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ছবিতে জয়া লিখেছেন, তাঁর মায়ের বিয়ের শাড়ি দুটি ৪৫ বছর পুরনো। এগুলো কলকাতা থেকে তাঁর বাবা কিনে এনেছিলেন, একটি বিয়ের এবং অন্যটি বৌভাতের জন্য। সোনার সুতোয় তৈরি এই শাড়িগুলো যুগের পর যুগ ধরে এক চিরন্তন রূপকথার মতো, যা আজও নতুন বিবাহের উচ্ছ্বাস আর আনন্দের গন্ধ বহন করে।

জয়া জানান, ছোটবেলায় তিনি ও তাঁর বোন এই শাড়িগুলো নিয়ে কতটা ঝগড়া করতেন, কে কোনটা নেবে তা নিয়েই নানা রকম মজার বিরোধ ছিল। নীল শাড়িটি জয়ার পছন্দ ছিল, আর বোনের ভালো লাগত টুকটুকে লাল শাড়িটি। কখনো কখনো পছন্দ পাল্টাপাল্টি হলেও এই দুটি শাড়ি ছিল তাদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ, যা তাদের মাঝে গভীর টান সৃষ্টি করত।

অভিনেত্রী আরও প্রকাশ করেন, মায়ের পুরনো শাড়িগুলো তার কাছে শুধু পোশাক নয়, বরং এক আত্মিক সম্পদ। মায়ের বিয়ের শাড়ি, জন্মের আগে পরা শাড়ি, সবই আলমারির যত্নে সংরক্ষিত, ন্যাপথলিনের গন্ধে মোড়া একটি জীবন্ত ইতিহাস। এটি তার মাতৃতান্ত্রিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের প্রতীক, যা তার জীবনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

শেষে জয়া জানান, সম্প্রতি সুযোগ পেয়ে এই শাড়িগুলো পরলেন, সুন্দর করে সাজিয়ে একটি ফটোশ্যুটও করলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই ছবিগুলো তার ভক্তদের কাছে ভালো লাগবে এবং তাদের হৃদয়ে অতীতের মধুর স্মৃতির জেগে ওঠা অনুভূতি ছড়িয়ে দেবে।

জয়া আহসানের এই পোস্ট শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়, বরং আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবারের বন্ধনের গভীরতা তুলে ধরে। শাড়ি, বিশেষ করে মায়ের বিয়ের শাড়ি, অনেক সময় পরিবারের ইতিহাসের ছাপ বহন করে। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পারিবারিক গল্প ও আবেগের সংযোগ রক্ষা করে। আজকের আধুনিক জীবনে, যেখানে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে, সেখানে এই ধরনের স্মৃতিচারণ আমাদের ঐতিহ্যের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে।

আমাদের সমাজে নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক যেমন শাড়ি, শুধুমাত্র পোশাক নয়, বরং জীবনের বিভিন্ন ধাপের স্মৃতি ও সংস্কৃতির ধারক। জয়ার মতো একজন পরিচিত মুখ যখন সামাজিক মাধ্যমে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে ঐতিহ্যবোধ জাগ্রত করে এবং সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বাড়ায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ