নতুন বছরের শুরুতেই ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। বছরের প্রথম কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরুর পর প্রথম আড়াই ঘণ্টায়, বেলা ১টা পর্যন্ত প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৬ পয়েন্ট। গত বছরটি শেয়ারবাজারের জন্য ছিল হতাশার। বছরের বেশির ভাগ সময় দরপতনের মধ্যে দিয়ে গেছে বাজার। ২০২৫ সালের শুরুতে […]
ছবি: সংগৃহীত
নতুন বছরের শুরুতেই ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। বছরের প্রথম কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরুর পর প্রথম আড়াই ঘণ্টায়, বেলা ১টা পর্যন্ত প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৬ পয়েন্ট।
গত বছরটি শেয়ারবাজারের জন্য ছিল হতাশার। বছরের বেশির ভাগ সময় দরপতনের মধ্যে দিয়ে গেছে বাজার। ২০২৫ সালের শুরুতে ডিএসইএক্স যেখানে ছিল ৫ হাজার ২১৮ পয়েন্টে, বছরের শেষে তা নেমে আসে ৪ হাজার ৮৬২ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক বছরে সূচক কমে যায় ৩৫৬ পয়েন্টের বেশি, যা শতাংশের হিসাবে সোয়া ৭ ভাগেরও বেশি। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন নেমে আসে প্রায় ৩০০ কোটি টাকায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজ করছিল অনিশ্চয়তা ও হতাশা। নতুন বছরের এই ইতিবাচক সূচনা সেই হতাশার বিপরীতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গত বছর অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং ভালো শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে বাজার যখন তলানিতে, তখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও তৈরি হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। নির্বাচন ঘিরে থাকা সংশয়ও কমেছে। এসব কারণে নতুন বছরটি শেয়ারবাজারের জন্য আশাব্যঞ্জক হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাজারের বর্তমান অবস্থান থেকে বড় ধরনের পতনের সম্ভাবনা কম, বরং নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা ফিরলে বাজার আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারে।
বছরের প্রথম দিনে বেলা ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে মোট লেনদেন ছাড়িয়েছে ২০০ কোটি টাকা। লেনদেনের শীর্ষে ছিল উত্তরা ব্যাংক, যার শেয়ারের হাতবদল হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকার। এ সময় ব্যাংকটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ টাকা ৪০ পয়সায়।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, সিমটেক্স, সোনালি পেপার ও রহিমা ফুড। এই চার প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা।