কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গত ছয় বছরে জমা পড়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিশ্বের ১৭টি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। দীর্ঘ হিসাব-নিকাশ শেষে সোমবার রাতে এসব তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগৃহীত স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা […]
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গত ছয় বছরে জমা পড়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিশ্বের ১৭টি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। দীর্ঘ হিসাব-নিকাশ শেষে সোমবার রাতে এসব তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগৃহীত স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন অভিজ্ঞ সদস্যের তত্ত্বাবধানে স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংকের ১০ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল দিনভর ১৭টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করে। পুরো প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার ৫৭ ডলার, সৌদি আরবের ৫৭ হাজার ৪১৪ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ হাজার ৬৬২ রিঙ্গিত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১৪ হাজার ২৪০ দিরহাম এবং কুয়েতের ৭৬৭ দশমিক ৫ দিনার।
এ ছাড়া পাওয়া গেছে ওমানের ৮৮৮ রিয়াল ৩৪৮ বাইসা, কাতারের ৭ হাজার ৯৭৩ রিয়াল, বাহরাইনের ৩৩৩ দিনার, সিঙ্গাপুরের ১ হাজার ৭১৮ ডলার, যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ২২০ পাউন্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো।
তালিকায় আরও রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ৫৫৫ ডলার, কানাডার ২৫ ডলার, মালদ্বীপের ৯০০ রুফিয়া, জর্ডানের ৯২ দিনার, ভারতের ৩৭ হাজার ৮৭৭ রুপি এবং চীনের ৩০৫ ইউয়ান।
সংগৃহীত সম্পদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ ও রুপা জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন বা হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে ব্যাংকে জমা রাখা হবে।
এর আগে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে সংগৃহীত ৪১৫ ভরি স্বর্ণ ও ১৬৪ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর আস্থার প্রতীক পাগলা মসজিদের তহবিলে বর্তমানে মোট ১৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।