বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের আসন্ন সিনেমা ‘ভূত বাংলা’ মুক্তির আগেই তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’–এর জনপ্রিয় গানের সুর ও কথার আদলে সিনেমাটির একটি গান নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ছবিটির নির্মাতা দল। ‘রাম জি আকে ভালা করেঙ্গে’ শিরোনামের গানটি […]
ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের আসন্ন সিনেমা ‘ভূত বাংলা’ মুক্তির আগেই তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’–এর জনপ্রিয় গানের সুর ও কথার আদলে সিনেমাটির একটি গান নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ছবিটির নির্মাতা দল।
‘রাম জি আকে ভালা করেঙ্গে’ শিরোনামের গানটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, এতে সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিকে অনুকরণ করে অবমাননা করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু অনুপ্রেরণা নয়, বরং মূল গানের ভাব, সুর ও শব্দচয়নকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
হরর-কমেডি ঘরানার এই সিনেমার গানটিতে ‘কালা ভূত গোরা ভূত’, ‘নর ভূত মাদা ভূত’ এবং ‘ভাই ভূত বহেনা ভূত’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি সত্যজিতের ‘আহা ভূত, বাহা ভূত’ গানের অনুষঙ্গকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে দুই গানের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন দর্শক ও সমালোচকরা।
শুধু সুর বা কথাই নয়, গানটির দৃশ্যায়ন নিয়েও আপত্তি উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মূল গানের যে সরলতা, স্নিগ্ধতা ও শৈল্পিক আবেদন ছিল, সুরকার প্রীতম এবং গীতিকার কুমার তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং অতিরঞ্জিত উপস্থাপন ও আধুনিক নাচের সংযোজন গানটির মূল আবহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে গানে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে স্বল্পবসনা প্রেতিনী ও নর্তকীদের নাচের দৃশ্য অনেক দর্শকের কাছেই বেমানান ঠেকেছে। তাদের মতে, এই ধরনের দৃশ্যায়ন গানটির ভাবগম্ভীরতা ও নান্দনিকতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
সব মিলিয়ে, ‘ভূত বাংলা’ ছবির এই গানটি প্রকাশের পর থেকেই বলিউডে নতুন করে সৃজনশীলতা বনাম অনুকরণের বিতর্ক উসকে দিয়েছে, যা সিনেমাটির মুক্তির আগেই নির্মাতাদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।