বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও বড় তিনটি বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল, তবু ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বাজারে পতনের চাপ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক করে তুলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এতে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশে। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, ফলে এই বাজারের অংশীদারিত্ব ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশেরও বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমার নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোসহ অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশও ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।
পণ্যের ধরন অনুযায়ী হিসাবেও ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ওভেন পোশাকের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম কমেছে, মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থবছরজুড়ে নিটওয়্যারের তুলনায় ওভেন পোশাকের বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল ছিল বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রপ্তানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে সংকোচন অব্যাহত থাকায় নতুন বাজার অনুসন্ধান, ক্রেতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো