ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়াসহ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান। বুধবার (১২ আগস্ট) তেহরানে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউয়ের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন রেজায়ি। আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে এ […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়াসহ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
বুধবার (১২ আগস্ট) তেহরানে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউয়ের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন রেজায়ি। আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রেজায়ি পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরের বর্তমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র একটি অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের শর্ত মেনে নিতে হবে। যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করাও এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে। ইরানের আরও কিছু শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও বৈঠকে কথা বলেন রেজায়ি। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ইরান ও চীনের মধ্যে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ একটি কৌশলগত চুক্তির অংশীদার এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের সদস্য।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে চীন সমর্থন না দেওয়ায় দেশটির অবস্থানের প্রশংসা করেন রেজায়ি। ওই সময় ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়েও রেজায়ি বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট নৌপথ নিয়ে চুক্তি হলে সেটিকে প্রণালী অবরোধের বিষয়টির সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। দুটি বিষয় আলাদা।
বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউ ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইরান ও চীনকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরোধিতা করেন।
চীন ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী বলেও জানান জং পেইউ। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিকে চীন স্বাগত জানায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র: প্রেসটিভি