রাজবাড়ীর পাংশায় সোনার দোকানের মালিককে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সোনা, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে […]
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর পাংশায় সোনার দোকানের মালিককে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সোনা, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
পুলিশ সুপার জানান, পাংশা থানাধীন নারায়ণপুরের দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’ নামে একটি সোনার দোকান রয়েছে। দোকানটির মালিক শহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে তার কাছ থেকে দোকানের চাবি নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে সোনা, রুপার অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দোকানের কর্মচারী লিটন কৌশলে চুরির পরিকল্পনা করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে লিটন ও তার এক সহযোগী দোকান মালিক শহিদুল ইসলামকে জলিলপাড়ায় লিটনের বোনের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে তার পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে লিটন দোকানে ফিরে আসেন। এ সময় অপর কর্মচারী দীপকে কৌশলে খাবার আনতে পাঠানো হয়। তার অনুপস্থিতিতে আলমারি খুলে সোনা ও রুপার অলংকার এবং নগদ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।
চুরি শেষে দোকানের চাবি আবার শহিদুল ইসলামের পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেটের মোড়ে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া সোনার পরিমাণ ২৫ ভরি, রুপা ২২০ ভরি এবং নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। তবে ঘটনার বর্ণনার এক পর্যায়ে রুপার পরিমাণ ২০০ ভরি বলা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লিটনের অবস্থান শনাক্ত করে পাংশা থানা-পুলিশ গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, লিটনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ ভরি ১ দশমিক ৫৮ আনা সোনা এবং ২২০ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অলংকার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক