সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিনোদন
১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

রিয়া চক্রবর্তীর জীবনের নতুন সূচনা অভিনয় থেকে উদ্যোক্তা ও আত্মবিশ্বাসের পথে যাত্রা

বলিউডের প্রিয় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রয়াত হওয়ার পর থেকে তার সাবেক প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর জীবন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ের পরিপ্রেক্ষিত থেকে দূরে সরে গিয়ে রিয়া এখন নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করছেন—একজন উদ্যোক্তা ও মনোবলসম্পন্ন মানুষ হিসেবে। এই রূপান্তরের গল্প শুধুই ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমাদের শেখায় কিভাবে কঠিন সময়কে জয় করে […]

রিয়া চক্রবর্তীর জীবনের নতুন সূচনা অভিনয় থেকে উদ্যোক্তা ও আত্মবিশ্বাসের পথে যাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বলিউডের প্রিয় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রয়াত হওয়ার পর থেকে তার সাবেক প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর জীবন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ের পরিপ্রেক্ষিত থেকে দূরে সরে গিয়ে রিয়া এখন নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করছেন—একজন উদ্যোক্তা ও মনোবলসম্পন্ন মানুষ হিসেবে। এই রূপান্তরের গল্প শুধুই ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমাদের শেখায় কিভাবে কঠিন সময়কে জয় করে নতুন সাফল্যের পথে এগোয়া যায়।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর ২০২০ সালে রিয়া চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হন। সেসময় তার প্রতি ঘৃণাসূচক প্রচারণা চালানো হয়, যা তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ তাকে ভেঙে ফেলতে পারেনি। বরং সে সময় থেকেই রিয়া নিজের ভেতর থেকে শক্তি সংগ্রহ করে জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছেন।

বর্তমানে রিয়া অভিনয়ের বাইরে থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে তিনি শুরু করেছেন পোশাকের ব্র্যান্ড ‘চ্যাপ্টার ২’, যা তার নতুন সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচায়ক। পাশাপাশি, নিজের পডকাস্টের মাধ্যমে সমাজ ও মানব জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন, যা তার ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে।

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর ‘জিকিউ হিরোজ ২০২৫’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিয়া জানান, “ভিকটিম হওয়া একটি মানসিক অবস্থা, কিন্তু আমি সারভাইভার হতে চেয়েছি।” এই কথায় তার অভিজ্ঞতার গভীরতা ফুটে ওঠে, যা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। কঠিন সময় তাকে ভিকটিম ভাবতে দেয়নি; বরং নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার শক্তি দিয়েছে।

রিয়া আরও বলেন, “মানুষ আজও আমার কাছে ক্ষমা চায়, কিন্তু আমি কখনো নিজেকে ভিকটিম মনে করিনি। তুমি হয় ভিকটিম, নয়তো সারভাইভার। আমি বেছে নিয়েছি সারভাইভার হওয়া।” এই মানসিকতা তাকে জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। বহু বছর বাইরের স্বীকৃতি না পাওয়া সত্ত্বেও নিজের ভেতর থেকে সাহস ও শক্তি খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

তার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্ম-প্রেম ও আত্ম-সমঝোতা। “যখন তুমি নিজেকে ভালোভাবে বুঝতে পারো এবং নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে কর, তখন অন্যের কথা আর তোমাকে আঘাত করতে পারে না।” এই বক্তব্য বর্তমান সময়ের সকলের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষা, বিশেষ করে যারা সামাজিক চাপ ও সমালোচনার মুখোমুখি।

রিয়ার এই পরিবর্তনশীল যাত্রা শুধু তার ব্যক্তিগত পুনর্জীবন নয়, বরং আমাদের জানায় যে জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। তার উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত ও মনোবল আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নিজস্ব সম্ভাবনা নিয়ে আসে, যা সঠিক মনোভাব ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সফল করা যায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ