সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে রহস্যময় সুড়ঙ্গের সন্ধান, ভেতরে মিললো বিছানা-বালিশ

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় একটি বাড়ির বাগানের ভেতর থেকে রহস্যময় একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। মাটি খুঁড়ে তৈরি করা ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে ওঠানামার সিঁড়ি, বিছানা-বালিশসহ থাকার উপযোগী বেশ কিছু সামগ্রী পাওয়া গেছে। বাইরে থেকে যাতে কিছু বোঝা না যায়, সে জন্য এর মুখ বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় এলাকায় […]

লক্ষ্মীপুরে রহস্যময় সুড়ঙ্গের সন্ধান, ভেতরে মিললো বিছানা-বালিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় একটি বাড়ির বাগানের ভেতর থেকে রহস্যময় একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। মাটি খুঁড়ে তৈরি করা ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে ওঠানামার সিঁড়ি, বিছানা-বালিশসহ থাকার উপযোগী বেশ কিছু সামগ্রী পাওয়া গেছে। বাইরে থেকে যাতে কিছু বোঝা না যায়, সে জন্য এর মুখ বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সুড়ঙ্গটি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সম্প্রতি এই সুড়ঙ্গের বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এলাকাবাসী সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলে।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশে একটি বাগানের ভেতর এই সুড়ঙ্গের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুড়ঙ্গটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে বাইরে থেকে দেখার সুযোগ ছিল না। ভেতরে তিন থেকে চারজন একসঙ্গে অবস্থান করতে পারতেন বলেও দাবি করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুজন সাহা নামের এক যুবক তার সহযোগীদের নিয়ে এটি তৈরি করেছিলেন। তারা নিয়মিত সেখানে বসতেন এবং মাদক সেবন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সুড়ঙ্গটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ওই যুবক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
সুজন সাহার স্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুড়ঙ্গটি তার স্বামী তৈরি করেছিলেন। তবে সেখানে মাদক সেবন করা হতো কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকেই তিনি প্রথমে সুড়ঙ্গের খবর পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যিনি এটি তৈরি করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদক সেবনের সুবিধার জন্যই বাগানের ভেতরে মাটির নিচে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুড়ঙ্গটি শনাক্ত করে। স্থানীয়রা সেখানে মাদক সেবন করা হতো বলে অভিযোগ করেন। পরে মাদক সেবন রোধে সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।
সুড়ঙ্গটি ঘিরে এখনো স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কী উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল, এর সঙ্গে কারা জড়িত, আর কীভাবে এতদিন বিষয়টি অগোচরে রয়ে গেল—এসব নিয়ে এলাকায় আলোচনা থামছে না।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ