কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের বার্তা দিচ্ছে ইরান। প্রণালির কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা সমুদ্রের দিক থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর অঞ্চলটিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরার। তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির […]
ছবি: সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের বার্তা দিচ্ছে ইরান। প্রণালির কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা সমুদ্রের দিক থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর অঞ্চলটিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ আটক এবং মার্কিন ড্রোনকে লক্ষ্য করে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনাও আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ ও ড্রোনকে ঘিরে ইরানের সামরিক তৎপরতা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। চলতি বছরও ইরান একাধিকবার প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়েছে। আগস্টে দেশটির কর্মকর্তারা হরমুজকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অধীনে রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সামরিক উপায়ে সার্বক্ষণিকভাবে পুরো হরমুজ প্রণালি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করছে।
এদিকে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধানের এক উপদেষ্টা বলেছেন, আগের ও চলমান সংঘাতের সময় ইরান তাদের অনেক উন্নত অস্ত্র ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এখনো ব্যবহার করেনি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন কিংবা উত্তেজনা তৈরি হলে তার কঠোর জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ মূলত নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই বিরোধ একাধিকবার সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছরের সংঘাতের মধ্যেও প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন বারবার ব্যাহত হয়েছে।