সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

স্বাস্থ্য
২:০৭ অপরাহ্ন, ৪ জুন ২০২৬

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল পরিচালনায় গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে […]

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল পরিচালনায় গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালের গেটে শোকজ নোটিশও টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরদিন ২৮ মে এ ঘটনায় মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ভবনটি উপযুক্ত ছিল না। সংশ্লিষ্ট কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি ছিল এবং অভিভাবকদের জরুরি আহ্বানেও নার্সরা যথাযথ সহযোগিতা করেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার আগে ভবনের উপযুক্ততা যাচাইয়ের সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্তে নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, অক্সিজেন স্বল্পতা, ছোট কক্ষে অতিরিক্ত রোগীর উপস্থিতি, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্সদের অসহযোগিতা এবং প্রশাসনিক অবহেলার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।”

তিনি আরও বলেন, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ