সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৪:১৭ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আমেরিকা থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা মেলেনি, চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলেও দেশটি থেকে বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার […]

আমেরিকা থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা মেলেনি, চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলেও দেশটি থেকে বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার তৃতীয় দিনে চায়না এক্সিম ব্যাংক ও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নের উদ্যোগ, নতুন ঋণ সহায়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনাও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

ঋণের বদলে বিনিয়োগে গুরুত্ব

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ বাড়ানো। ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ঋণনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশটি থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় ধরনের সহযোগিতা পায়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও পণ্যসামগ্রী আমদানি করছে। এসব আমদানি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলছে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশটির কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতা প্রত্যাশা করা যৌক্তিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার উপযুক্ত সময় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অবস্থানের সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে প্রত্যাশিত সহযোগিতা বাস্তবে কতটা এবং কোন প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ ক্ষেত্রে আলোচনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কী ধরনের সহায়তা পাবে।

আইএমএফের সঙ্গে আবারও বৈঠক

এদিকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থায়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আইএমএফের সঙ্গে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নতুন ঋণ সহায়তা পাওয়ার অগ্রগতি এবং দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা আদায় এবং আইএমএফের নতুন ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ