নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদক সেবনের অভিযোগে বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী মাসুদের ছেলে মোবারক করিম স্বাধীনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশি হেফাজত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, আর এ সময় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।বুধবার (৭ মে) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও […]
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদক সেবনের অভিযোগে বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী মাসুদের ছেলে মোবারক করিম স্বাধীনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশি হেফাজত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, আর এ সময় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।
বুধবার (৭ মে) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার সকালে মো. আসাদুর রহমান বলেন, মোবারক করিম স্বাধীনকে মাদকসহ ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল। পরে মাদক সেবনের দায়ে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা এবং তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি গ্রামের কবরস্থান মোড় এলাকা থেকে তিন পিস ইয়াবাসহ মোবারক করিম স্বাধীনকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খবর পেয়ে বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী মাসুদের সমর্থকেরা তদন্ত কেন্দ্রের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. আসাদুর রহমান। শুনানি শেষে মাদক সেবনের অভিযোগে মোবারক করিম স্বাধীনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ছবি তুলতে যাওয়ায় বিশনন্দী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হামলার শিকার হয়েছেন। নূরুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ আটকের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ছবি তুলতে গেলে মাসুদের লোকজন তাকে মারধর করে। পরে বাসায় ফিরে গেলে সেখানেও তার ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান বলেন, স্বাধীনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর কিছু লোকজন তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় পাঠানো হয়।
অন্যদিকে গাজী মাসুদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নূরুল ইসলাম এই ষড়যন্ত্রে জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। মাসুদের ভাষায়, পরিকল্পিতভাবেই তার ছেলেকে মাদকসহ আটক দেখানো হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।