জেনারেশন জি বা জেন-জির আন্দোলনের পর এবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে জেনারেশন আলফা বা স্কুল শিক্ষার্থীরা। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের সমূহি ভাটপুরওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলের জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ ও সুপেয় […]
ছবি: সংগৃহীত
জেনারেশন জি বা জেন-জির আন্দোলনের পর এবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে জেনারেশন আলফা বা স্কুল শিক্ষার্থীরা। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের সমূহি ভাটপুরওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলের জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির অভাব এবং নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজনের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বহু সরকারি স্কুলে এখনো এমন কিছু মৌলিক সুবিধা নেই, যা স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়।
এই আন্দোলনের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্বের মতো ইস্যুতে জেন-জির নেতৃত্বে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির পর শিক্ষার্থীদের এই নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
গত ১৫ আগস্ট থেকে সিজেপি ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, ২০০৯ সালের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই) থাকা সত্ত্বেও ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে ভবনের দুরবস্থা, শিক্ষকস্বল্পতা, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির সংকট শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে তাই শুধু স্কুলভিত্তিক অসন্তোষ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও এই বিক্ষোভের মাধ্যমে সামনে আসছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ বর্তমানে আন্দোলনে থাকা শিশু ও কিশোরদের একটি অংশ ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় নতুন ভোটার হিসেবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জেন-জি আন্দোলনের পর স্কুলপড়ুয়া জেন-আলফার এই বিক্ষোভ ভারতে প্রজন্মভিত্তিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের নতুন একটি চিত্র সামনে আনছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি সেবার মতো বিষয়গুলো নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ আগামী দিনগুলোতে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হবে কি না, সেটিই এখন নজরে রাখার বিষয়।