স্বর্গে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে থাকতে প্ররোচিত করে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে কেনিয়ার স্বঘোষিত ধর্মগুরু পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। নিহতদের মধ্যে ১৯০ জনই শিশু। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মোম্বাসা হাইকোর্ট এ রায় দেন। একই মামলায় ম্যাকেঞ্জির ২৮ সহযোগীকেও সাজা দেওয়া হয়েছে। কেনিয়ার গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের বাড়িঘর ছেড়ে […]
ছবি: সংগৃহীত
স্বর্গে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে থাকতে প্ররোচিত করে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে কেনিয়ার স্বঘোষিত ধর্মগুরু পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। নিহতদের মধ্যে ১৯০ জনই শিশু। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মোম্বাসা হাইকোর্ট এ রায় দেন। একই মামলায় ম্যাকেঞ্জির ২৮ সহযোগীকেও সাজা দেওয়া হয়েছে।
কেনিয়ার গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের বাড়িঘর ছেড়ে পূর্বাঞ্চলের শাকাহোলা বনে চলে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন। সেখানে উপবাস করলে ঈশ্বরের আরও কাছে যাওয়া যাবে এবং স্বর্গে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
গত মাসে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার দায়ে ম্যাকেঞ্জিকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। একই মামলায় তাঁর ২৮ সহযোগীকেও দোষী ঘোষণা করা হয়। ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাঁরা।
এ ছাড়া ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
২০২৩ সাল থেকে মালিন্দি উপকূলীয় পর্যটন এলাকার কাছে শাকাহোলা বনে শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ‘শাকাহোলা ফরেস্ট ম্যাসাকার’ নামে পরিচিতি পায়। কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৪২৯ জনে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের প্রায় ১২০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাঁদের বর্ণনায় উঠে আসে, ম্যাকেঞ্জির অনুসারীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে ‘শয়তানি’ বলে মনে করতেন। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও হাসপাতালকেও শয়তানের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনুসারীদের বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স, বাংলা ট্রিবিউন