সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
১:২৩ অপরাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

‘জেল খাটলে কেমন লাগে’— সেই কৌতূহল মেটাতে খুনে জড়ালো ৬ বন্ধু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, “জেল খাটলে কেমন লাগে, কেমন অভিজ্ঞতা হয়”—এমন কৌতূহল থেকেই ছয় শিশু ও কিশোর মিলে শিশুটিকে হত্যা করে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ […]

‘জেল খাটলে কেমন লাগে’— সেই কৌতূহল মেটাতে খুনে জড়ালো ৬ বন্ধু

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, “জেল খাটলে কেমন লাগে, কেমন অভিজ্ঞতা হয়”—এমন কৌতূহল থেকেই ছয় শিশু ও কিশোর মিলে শিশুটিকে হত্যা করে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী এ তথ্য জানান। এর আগে ২৪ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত হয়—সে ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন, বয়স ১১ বছর। গত ১৮ এপ্রিল থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এ হত্যাকাণ্ডে ছয়জন শিশু ও কিশোর জড়িত। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এ কারণে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। জড়িতদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল সকালে হোসাইন বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। নিখোঁজের দিন সে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ছয়জন মিলে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযুক্তরা সবাই মাদকাসক্ত। তারা ‘জেল খাটলে কেমন লাগে’—এই কৌতূহল থেকেই কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। সে সময় হোসাইন ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিল, ফলে তাকে টার্গেট করা হয়। পুরোনো কোনো বিরোধ না থাকলেও শিশুটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনাটি সম্পর্কে আরেক কিশোরকে জানানো হয়েছিল, যাতে মরদেহের অবস্থান নজরে রাখা যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে প্রথমে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর জবানবন্দি দেয়, যেখান থেকে মূল ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, সেই জবানবন্দির ভিত্তিতে গত রোববার দুইজনকে বরিশাল থেকে এবং বাকিদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের স্থায়ী ঠিকানা বিভিন্ন জেলায় হলেও তারা পরিবারসহ ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

পুলিশ আরও জানায়, পরিত্যক্ত ভবনের একপাশে ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ