নিউইয়র্কে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ICE) তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ভিডিওতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হলে নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে মামদানির সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান রাজনীতিকেরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আমেরিকা বাংলা। ভিডিওতে মামদানি আইসিই কর্মকর্তাদের […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ICE) তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ভিডিওতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হলে নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে মামদানির সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান রাজনীতিকেরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আমেরিকা বাংলা।
ভিডিওতে মামদানি আইসিই কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হলে কীভাবে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে, সে বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া আইসিই কর্মকর্তারা সাধারণত বাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল কিংবা কর্মস্থলের ব্যক্তিগত এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন না।
পরোয়ানা যাচাইয়ের সময় তাতে ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট’ লেখা এবং বিচারকের স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন মামদানি। কর্মকর্তাদের পরোয়ানাটি দরজার নিচ দিয়ে এগিয়ে দিতে বলার কথাও বলেন তিনি। বিচারিক পরোয়ানা না থাকলে তাঁদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করেন নিউইয়র্কের মেয়র।
এ ছাড়া রাস্তায় আইসিই কর্মকর্তারা থামালে নীরব থাকার অধিকার এবং আইনগতভাবে সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি আছে কি না, তা জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন তিনি। কোনো নথিতে স্বাক্ষর করা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার ওপরও গুরুত্ব দেন মামদানি।
ভিডিওর শেষাংশে অভিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা একা নন। অভিবাসী সম্প্রদায়ের পাশে থাকার এবং তাঁদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন নিউইয়র্কের মেয়র।
ভিডিওটি প্রকাশের পর রিপাবলিকান রাজনীতিকেরা এর সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, মামদানি এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছেন।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, মামদানি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আইসিইকে এড়াতে এবং আইনকে দুর্বল করতে সহায়তা করছেন। নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান নিক লালোটাও ভিডিওটির সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে অভিবাসীদের জবাবদিহি এড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
উটাহর সিনেটর মাইক লি মন্তব্য করেন, ভিডিওতে কাউকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়নি। অন্যদিকে, ওহাইওর সিনেটর বার্নি মোরেনো ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় একে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে আখ্যা দেন। আরও কয়েকজন রক্ষণশীল রাজনীতিক ও ভাষ্যকারও মামদানির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। নিউইয়র্কে অভিবাসীদের সুরক্ষায় শহরের অভয়াশ্রম-সংক্রান্ত নীতি বজায় রাখা এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা সীমিত রাখার পক্ষে তাঁর অবস্থান রয়েছে। মেয়র হিসেবে অভিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
আইসিইর অভিযান ঘিরে নিউইয়র্কে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভিডিওটি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় আইসিইর এক অভিযানের সময় ডমিনিকান বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনার পর আইসিইর অভিযান নিয়ে আপত্তি জানান মামদানি।
মামদানির ভিডিওকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং অভিবাসীদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টি। ভিডিওতে মামদানি বিচারিক পরোয়ানা যাচাই, নীরব থাকার অধিকার এবং আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সমালোচকেরা তাঁর এই উদ্যোগকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: আমেরিকা বাংলা