সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৬:৪৮ অপরাহ্ন, ১৪ আগস্ট ২০২৬

ফেসবুক লাইভে এমপির সমালোচনা, এনসিপির বহিষ্কৃত নেতাকে মারধরের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমালোচনা করার জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা আসাদ খোকনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর রাজবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। […]

ফেসবুক লাইভে এমপির সমালোচনা, এনসিপির বহিষ্কৃত নেতাকে মারধরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমালোচনা করার জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা আসাদ খোকনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর রাজবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সঙ্গে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

আসাদ খোকন নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি একসময় এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত বছর তাকে সাময়িকভাবে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আসাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে জেলা শহর থেকে ‘ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর’ সংগঠনের উদ্যোগে হরিপুর রাজবাড়িতে নৌকাভ্রমণ ও বনভোজনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি আসাদ খোকনসহ আরও অনেকে অংশ নেন।

দুপুরে রাজবাড়িতে পৌঁছানোর পর আসাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে যান। পরে দুপুর ২টার দিকে তিতাস নদীতে গোসল করার সময় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের পর তাকে রাজবাড়ির ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে এনসিপির নেতা সুফিয়ান আজাদও হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে মারধরের কারণে আসাদ খোকন অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।

পরে হামলাকারীরা আসাদকে নাসিরনগর সদরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় দিয়ে দেয়।

এমপির সমালোচনার কারণেই হামলার অভিযোগ

‘ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাবের হোসাইন অভিযোগ করেন, আসাদ খোকন বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এবং সরকারের সমালোচনা করে আসছিলেন।

তার দাবি, ফেসবুক লাইভে এমপির সমালোচনা করার কারণে এর আগেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আসাদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালিয়েছেন। শুক্রবারের ঘটনাটিও সেই বিরোধের ধারাবাহিকতা বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন। তার দাবি, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরেই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি, ছাত্রদল বা যুবদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না।

পুলিশের বক্তব্য কী

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু মানুষের মধ্যে আসাদ খোকনের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তবে হামলার শিকার হওয়ার পরও আসাদ খোকন এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ