যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হলো। নতুন শুল্কের হার পণ্যভেদে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে ইস্পাত, পোশাক, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপের পাল্টা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হলো। নতুন শুল্কের হার পণ্যভেদে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে ইস্পাত, পোশাক, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই শুল্ক কার্যকর করেছে অটোয়া।
কানাডার নতুন শুল্ক মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশকে প্রভাবিত করবে। তবে পাল্টাপাল্টি শুল্কের কারণে দুই দেশের ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য বিরোধ উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য কাঠামোতেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিরোধের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, ট্রাক ও যন্ত্রাংশের ওপর আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি কানাডার উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই হুমকির পর বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তাদের উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রেই তৈরি হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক কোম্পানি ও কর্মসংস্থান জড়িত।
বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পাল্টাপাল্টি শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং উভয় দেশের ব্যবসা ও ভোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার পাল্টা শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পরিমাণ দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় সীমিত হলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগ হলো, পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ একটি দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা কয়েক মাস ধরে চললেও আগস্টে তা ভেস্তে যায়। এরপর দুই দেশই একে অপরের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করে। মঙ্গলবার কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই বিরোধ নতুন মাত্রা পেল।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি ও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগ তুলে নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যের অন্যতম ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (USMCA) নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে এর প্রভাব দুই দেশের বাইরেও পড়তে পারে।