রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি রাকসুর ১৫তম নির্বাচন, যা দীর্ঘ ৩৫ বছর পর হচ্ছে, কারণ এর আগের নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৯ জুলাই। নির্বাচনের সময়সূচি ও কেন্দ্রসমূহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি একাডেমিক ভবনে মোট ১৭টি […]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি রাকসুর ১৫তম নির্বাচন, যা দীর্ঘ ৩৫ বছর পর হচ্ছে, কারণ এর আগের নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৯ জুলাই।
নির্বাচনের সময়সূচি ও কেন্দ্রসমূহ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি একাডেমিক ভবনে মোট ১৭টি কেন্দ্র এবং ৯০৯টি বুথে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে বিকাল ৫টা থেকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে ফল গণনা শুরু হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে যাতে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য
এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটার অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৫ জন (৬০.৯%) এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৬ জন (৩৯.১%)। এছাড়া ৯ হাজার ২৫১ জন ভোটার আবাসিক এবং ১৯ হাজার ৬৫০ জন অনাবাসিক শিক্ষার্থী।
প্রার্থী সংখ্যা রেকর্ডসংখ্যক; রাকসুতে ২৩টি পদের জন্য ২৪৭ জন, ১৭টি হল সংসদে ২৫৫টি পদের বিপরীতে ৫৯৭ জন, এবং সিনেটের ৫টি পদের জন্য ৫৮ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। মোট ৮৬০ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, যা রাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন ভোটারকে মোট ৪৩টি পদে ভোট দিতে হবে এবং প্রতি ভোটের জন্য সময় নির্ধারিত মাত্র ১৪ সেকেন্ড, ফলে সমস্ত ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার পাবে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময়। ভোট কেন্দ্রে একজন ভোটার ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না, যা ভোট প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সুষ্ঠু রাখতে সাহায্য করবে।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মূলত ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও সাবেক সমন্বয়কদের ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল’-এর জিএস প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার সহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নজর কাড়ছেন, যারা চমক দেখানোর সম্ভাবনা রাখেন।
বিভিন্ন পদের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনে উত্তেজনা এবং উত্তম প্রতিযোগিতার লক্ষণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।
নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বহিরাগত প্রবেশ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম এবং প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেন।
নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রভাব
৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই রাকসু নির্বাচন শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, সমগ্র দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই নির্বাচন ছাত্র রাজনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া এই নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষানীতি গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সার্বিক চিত্র
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু নির্বাচন ২০২৫ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলার পরে এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় শুরু করবে। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নির্বাচন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনায় ভরে উঠেছে। তাদের প্রত্যাশা এই নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্ভীক, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ছাত্র নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক হবে।