সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

কমিউনিটি
২:৫২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কে ট্রাফিক ইউনিয়নের দুই বাংলাদেশি নেতার বিরোধ, সাঈদ ইসলাম ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত

নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক এজেন্টদের ইউনিয়ন সিডব্লিউএ লোকাল ১১৮২-এর সাধারণ সভায় হাতাহাতির অভিযোগে আটক হওয়ার পর সেক্রেটারি-ট্রেজারার সাঈদ ইসলামকে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর ম্যানহাটনে ইউনিয়নের সভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা সাঈদ ইসলাম ও খান শওকতকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ সাঈদ […]

নিউইয়র্কে  ট্রাফিক ইউনিয়নের দুই বাংলাদেশি নেতার বিরোধ, সাঈদ ইসলাম ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক এজেন্টদের ইউনিয়ন সিডব্লিউএ লোকাল ১১৮২-এর সাধারণ সভায় হাতাহাতির অভিযোগে আটক হওয়ার পর সেক্রেটারি-ট্রেজারার সাঈদ ইসলামকে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর ম্যানহাটনে ইউনিয়নের সভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা সাঈদ ইসলাম ও খান শওকতকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ সাঈদ ইসলামকে ম্যানহাটনের ১৪তম প্রিসিঙ্কটে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখার পর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, খান শওকত বেলভিউ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সভায় বিরোধ, পরে হাতাহাতির অভিযোগ

খান শওকতের অভিযোগ, ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্বের জবাবদিহি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভায় আলোচনা চলাকালে তাঁর সঙ্গে সাঈদ ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাঁরা বাইরে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। খান শওকতের দাবি, ওই সময় সাঈদ ইসলাম তাঁকে আঘাত করেন। এতে তাঁর মোবাইল ফোন মাটিতে পড়ে যায় এবং তিনি শারীরিকভাবে আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের নথি হিসেবে সরবরাহ করা তথ্যে ১৪তম প্রিসিঙ্কটের একটি মিসডিমিনর মামলার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ঘটনার তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ এবং অভিযুক্ত হিসেবে সাঈদ ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগকে অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ

হাতাহাতির অভিযোগের পেছনে ইউনিয়নের নেতৃত্ব, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাঈদ ইসলাম সিডব্লিউএ লোকাল ১১৮২-এর সেক্রেটারি-ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনিয়নের ওয়েবসাইটেও তাঁকে এ পদে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, খান শওকত আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

খান শওকতের অভিযোগ, ইউনিয়নের প্রায় ৪০ লাখ ডলারের আর্থিক হিসাব, ব্যয়ের নথি এবং অডিটের প্রক্রিয়া নিয়ে সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আর্থিক নথি প্রকাশ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের পোলো শার্ট তৈরি ও কেনাকাটার প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কেনাকাটায় অসংগতির এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, নিরীক্ষা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের আগে উত্তেজনা

ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতৃত্বের বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। খান শওকত বলেছেন, আর্থিক স্বচ্ছতা ও সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ চালিয়ে যাবেন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০১ সাল থেকে ট্রাফিক বিভাগে কাজ করছেন এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে, হাতাহাতির অভিযোগে সাঈদ ইসলামের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং ইউনিয়নের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—দুটি বিষয়ই সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।

সূত্র: আওয়াজবিডি ও ইউএসএ নিউজ অনলাইন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ