সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৬:৪০ পূর্বাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

শাপলা চত্বরের শহীদদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার উদ্যোগ ঘোষণা করলেন আসিফ মাহমুদ

রাজধানীর শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক হত্যাযজ্ঞে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের সম্মানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শহীদদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান। শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আসিফ […]

শাপলা চত্বরের শহীদদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার উদ্যোগ ঘোষণা করলেন আসিফ মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

রাজধানীর শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক হত্যাযজ্ঞে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের সম্মানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শহীদদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান।

শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

আসিফ মাহমুদ জানান, শাপলা চত্বরের ৫ মে ২০১৩ সালের বর্বর হত্যাযজ্ঞে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে চত্বরের স্থায়ী স্থাপত্যে লিপিবদ্ধ করা হবে। এটি হবে একটি চিরস্থায়ী সম্মানসূচক স্মারক, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগের গল্পকে জীবন্ত রাখবে। তিনি বলেন, “আমরা গর্ববোধ করি যে শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানানোর জন্য সামান্য হলেও একটি উদ্যোগ নিতে পারছি।”

ইতিহাসের সাক্ষী এবং প্রভাব

২০১৩ সালের এই হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় সংঘটিত এই ঘটনার স্মৃতি এখনও দেশের মানুষের মনে তাজা। আসিফ মাহমুদ নিজের স্মৃতিচারণায় বলেন, “সেই সময় আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর, ক্লাস নাইন ছিলাম। সেদিনের ঘটনা আজও আমার মনে স্পষ্টভাবে বাসা বাঁধে।”

হেফাজতে ইসলামের এই আন্দোলনের সময় নিহত হওয়া ৭৭টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এই অর্থ সাহায্য শহীদ পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর একটি ছোট্ট প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক মর্যাদা

আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, হত্যাযজ্ঞের পরে রাজনৈতিক শক্তি বিশেষ এই ঘটনার তথ্য ও স্মৃতিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছিল। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও ভয় পেতেন তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে। তিনি বলেন, “আমরা সেই অন্ধকার সময়কে ভুলতে পারি না এবং তা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সেজন্য এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ অপরিহার্য।”

তিনি আরো যোগ করেন, “এই শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।”

শহীদদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ শুধু একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে দেশের মাটিতে কখনো অসাম্প্রদায়িক শান্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কতজন আত্মত্যাগ করেছেন।

এ ধরনের স্মৃতিসৌধ জাতীয় ঐক্যবদ্ধতা ও ইতিহাস সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তা ছাড়া, এটি জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ