সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন বেতন কীভাবে ও কত ধাপে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন […]
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন বেতন কীভাবে ও কত ধাপে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠককে কেন্দ্র করে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকেই সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সদস্যদের উপস্থিতি শুরু হয়। বিকেল ৫টার পরও কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী বৈঠকস্থলে আসেন।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী এর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ১ জুলাই থেকে। তবে বর্ধিত বেতন একবারে পরিশোধ না করে ধাপে ধাপে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন পে-স্কেল কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, কত ধাপে বেতন সমন্বয় করা হবে এবং বকেয়া কীভাবে পরিশোধ করা হবে—এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রজ্ঞাপন প্রকাশে প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারিত হচ্ছে ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী।
ওই বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেড-২০-এর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবে বিদ্যমান মূল বেতন গড়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে কোন গ্রেডে কত টাকা মূল বেতন হবে এবং ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় কী পরিবর্তন আসবে, তা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই বিস্তারিত জানা যাবে।
অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়।
কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরি করে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
এরপর প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। তবে সরকারি চাকরিজীবীরা ঠিক কবে থেকে নতুন হারে বেতন হাতে পাবেন এবং বর্ধিত অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সেটি নির্ভর করবে প্রজ্ঞাপন ও পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর।