সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৫:৩২ অপরাহ্ন, ৬ নভেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক স্থান হবে না। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে […]

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক স্থান হবে না। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুমার নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং তার আগে ও আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দেশের পক্ষে, দ্বীনের পক্ষে এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল। একইভাবে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬ থেকে ১৭ বছর লেগেছে। এ সময় আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকের নাম ও কবরের ঠিকানাও এখনো অজানা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর দাবি, এর আগে ১৬ থেকে ১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, জনগণ আবারও সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন চায় কি না। তাঁর অভিযোগ, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনেও ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে পুরোনো শক্তির ফিরে আসার ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা কয়েকটি দলেরও সমালোচনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিছু দল নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও দলীয় নীতিমালায় ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই। মুখের বক্তব্যের সঙ্গে দলীয় নথির মিল থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। বিসমিল্লাহ সংযোজন, কোরআন তিলাওয়াত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির ধারায় তাঁরা বিশ্বাসী। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কথাও বলেন তিনি।

সংবিধান ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে ধারণ করার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল। সরকার সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপন করতে চায়।

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তাঁরা সেই রাজনৈতিক ধারার অনুসারী।

বক্তব্যের শেষাংশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শক্তির রাজনীতিতে ফিরে আসার বিরোধিতায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন, মসজিদে হামলা এবং মানুষের প্রাণহানির জন্য দায়ী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশের মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না।

দুই দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুনগর মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ