চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডটিতে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শনিবার বাংলাদেশ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) মহাপরিচালক এ. এস. এম শফিউল আলম তালুকদার জরুরি বার্তার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিএসআরবি মহাপরিচালকের স্বাক্ষর […]
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডটিতে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
শনিবার বাংলাদেশ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) মহাপরিচালক এ. এস. এম শফিউল আলম তালুকদার জরুরি বার্তার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিএসআরবি মহাপরিচালকের স্বাক্ষর করা দাপ্তরিক খুদেবার্তায় বলা হয়েছে, শিপইয়ার্ডটিতে ‘স্টপ অপারেশন অর্ডার’ (SOO) কার্যকর থাকবে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে গত শুক্রবার ভয়াবহ গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। ছুটির দিনেও ইয়ার্ডে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ভেতর থেকে স্থানীয়রা প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চার শ্রমিক মারা যান। ফলে এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে।
দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইয়ার্ডটি গ্রিন সনদধারী হলেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছুটির দিনে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর পাশাপাশি বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি থাকা অবস্থায় জাহাজ কাটার কাজ চলছিল। এর কয়েক মাস আগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরও ইয়ার্ডটিতে নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে মামলা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল।
এ ছাড়া বিস্ফোরক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ইয়ার্ডে থাকা একটি পুরনো এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাস থাকার তথ্য জানিয়েছিল।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ওই বিষাক্ত গ্যাসের ঘনত্ব ছিল প্রায় ১০০ পিপিএম। অতিরিক্ত মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতিই শ্রমিকদের জন্য প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
বর্তমানে বিএসআরবি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তদন্তের পর ইয়ার্ডের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।