সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৭০৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে। মাত্র সাড়ে চার দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা পরিমাণ সোনা। সোমবার জোহরের নামাজের পর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেগ খুলে গণনা কার্যক্রম […]
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৭০৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে। মাত্র সাড়ে চার দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা পরিমাণ সোনা।
সোমবার জোহরের নামাজের পর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেগ খুলে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে এ হিসাব পাওয়া যায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো ডেগগুলো সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজার প্রাঙ্গণে ৯টি নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজন করা হয়।
গণনার সময় ডেগের ভেতর থেকে একটি প্রশংসাপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই চিঠিতে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ও ভক্ত মাজারে এসে জিয়ারত করেন এবং দান-অনুদান প্রদান করেন। এসব অর্থ সাধারণত মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যয় করা হয়।
সম্প্রতি মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রশাসনের দাবি, প্রকাশ্যে অর্থ গণনা, নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার মধ্যেই রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে উপসচিব পদে ন্যস্ত করা হয়। তবে তার প্রত্যাহারের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।